ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

বাংলাদেশের ইন্টারনেট ভবিষ্যৎ বিপন্ন

২০২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮ ০৯:৩৫:৪০
বাংলাদেশের ইন্টারনেট ভবিষ্যৎ বিপন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের আইসিটি ও টেলিকম খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে সামিট গ্রুপের। এই আধিপত্যের পেছনে রয়েছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, বিশেষত হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ সহায়তা। সামিট গ্রুপকে একের পর এক লাইসেন্স দেওয়া হয়, যার ফলে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে দেশের ইন্টারনেট খাতের ৫০ শতাংশেরও বেশি।

২০০৯ সালের পর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সামিট গ্রুপ দ্রুত টেলিকম খাতে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা এনটিটিএন (ন্যাশনাল টেলিকম ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) লাইসেন্স পায় এবং পরে একে একে আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল), আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এবং আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) লাইসেন্সও লাভ করে। এই সব লাইসেন্স পাওয়ার মাধ্যমে সামিট গ্রুপ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তিতে পরিণত হয়।

এই অধিকার লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইন্টারনেট খাত ভারতনির্ভর হয়ে পড়ে, যা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করেছে। সরকারি খাতের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সামিট এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ব্যান্ডউইডথ আমদানি করে, ফলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

২০১২ সালে বিটিআরসি ৬টি প্রতিষ্ঠানকে আইটিসি লাইসেন্স দেয়, যার মধ্যে সামিট ছিল অন্যতম। এটি নীতিমালা লঙ্ঘন করে করা হয়েছিল, যা দেশের ইন্টারনেট খাতে প্রতিযোগিতার পরিপন্থী ছিল। সামিটের একাধিপত্যের ফলে বর্তমানে দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো ভারতের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানিকৃত ব্যান্ডউইডথের পরিমাণ প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যান্ডউইডথ ভারত থেকে আসে, এর মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি সামিটের হাতে রয়েছে। এতে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত যদি রাজনৈতিক কারণে ব্যান্ডউইডথ বন্ধ করে দেয়, তবে বাংলাদেশের ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত হতে পারে।

সরকারি উদ্যোগের অভাবে এখনও এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বিটিআরসি এবং সরকারের কিছু নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া, বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে ব্যান্ডউইডথ আমদানি কমিয়ে নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

সামিট টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলাম জানিয়েছেন, সামিট তার যোগ্যতা দিয়েই লাইসেন্স পেয়েছে এবং ইন্টারনেট খাতে ভারসাম্য বজায় রাখতে চেষ্টা করছে। তবে, তিনি ভারতের ওপর নির্ভরতা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, ব্যবসায়িক কারণে ভারতের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশের ইন্টারনেট খাত এখন সামিট গ্রুপের একচ্ছত্র দখলে, যা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নীতিমালা ও পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান না হলে দেশের সাইবার নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এনামুল/

ট্যাগ:

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর